দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও ভূমিধসের পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় জনগণকে নিরাপদ অবস্থানে থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা এড়ানো এবং শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের বিশেষ নিরাপত্তার বিষয়ে সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
চট্টগ্রামে বন্যার প্রভাব, চলছে সতর্কতামূলক প্রচার
চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি থেকে দূরে থাকা, সাপে কাটার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং ত্রাণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকার বিষয়ে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক
হবিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। জেলা তথ্য অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে জেলার কোনো পরিবার পানিবন্দি নেই। এ পর্যন্ত কোনো হতাহত বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
খাগড়াছড়িতে কমেছে পানি, নেই নতুন পাহাড়ধস
খাগড়াছড়িতে অধিকাংশ এলাকার বন্যার পানি নেমে গেছে। নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির শুরু থেকেই পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য জেলা তথ্য অফিস সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারে উন্নতি, নদীর পানি নিরাপদ সীমায়
কক্সবাজারে বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রামুর বাঁকখালী নদী এবং চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলায় নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি বলে জানানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারে ক্ষয়ক্ষতি, চলছে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম
মৌলভীবাজারে বন্যার পানি কমলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র রয়েছে। আকস্মিক বন্যায় জেলার প্রায় ৫৭ হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৪০৫টি পুকুর এবং ৫৪টি গ্রামীণ সড়ক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বন্যা চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে জনগণকে সচেতন রাখতে জেলা তথ্য অফিসের প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
রাঙামাটি ও বান্দরবানে স্বস্তি ফিরছে
রাঙামাটিতে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ভারী বর্ষণের সময় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হয়েছে।
বান্দরবানেও দুর্যোগ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষজন ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরছেন।
লামা ও রামগড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
লামা এলাকায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকলেও বন্যা বা পাহাড়ধসের কোনো নতুন ঘটনা ঘটেনি। মাতামুহুরী নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক রয়েছে।
রামগড়েও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ফেনী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়নি।
সরকারি সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে নজরদারি, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
