খাগড়াছড়ির পানছড়িতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনের প্রতিপক্ষের গুলিতে তিন যুবক নিহত হয়েছেন।
সোমবার ( ৬ জুলাই ) দুপুরে উপজেলার চেঙ্গী ইউনিয়নের মধুমঙ্গলপাড়া এলাকায় এঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— রাঙামাটির সাজেক থানার পদ্মা চাকমা (১৮), ধনা চাকমা (১৮), এবং পানছড়ি উপজেলার রিয়েল চাকমা (১৮)।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে মধু মঙ্গলপাড়া এলাকায় প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্রাশফায়ার শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলে তিন নিহত হন। এঘটনার পরপরেই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় অস্ত্রের মুখে আরও দুইজনকে অপহরণ করে নিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশকে খবর জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে হতে মরদেহ উদ্ধার করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এঘটনায় এলাকাজুরে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এসময়,ঘটনাস্থল থেকে দুটি মিসফায়ার রাউন্ড, ১৪টি ব্যবহৃত কার্তুজের খোসা এবং চারটি বুলেট উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
ঘটনার বিষয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফের) সাংগঠনিক সম্পাদক অংগ্য মারমা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে জানান, এই হত্যাকান্ড মূলত জেএসএসের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বর্হিপ্রকাশ।
অপরদিকে এবিষয়ে, জেএসএসের সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা জানান, দলের ভিতরে নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন বিরোধের রয়েছে এমনটা তাদের জানা নেই। তবে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানতে পারেননি তিনি।
পানছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ, (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, দু গ্রুপের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য এঘটনা ঘটেছে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
সান নিউজ/ জামান
