সামুদ্রিক মাছের প্রজনন, মজুদ বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে চলতি বছরও দেশের সমুদ্রসীমায় ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং একই সঙ্গে উপকূলীয় জেলেদের জন্য ব্যাপক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মাছ আহরণ বন্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় কার্যকর ছিল।
জেলেদের জন্য ২৪ হাজার টনের বেশি চাল সহায়তা
নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। মোট বিতরণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল।
এ ছাড়া চাল পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যাতে সহায়তা দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছানো যায়।
সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কার্যক্রম
নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। এ সময় ৬০টি টাস্কফোর্স সভা, ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি হাজার হাজার ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
অবৈধ মাছ শিকার রোধে কঠোর অভিযান
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান পরিচালিত হয়। এছাড়া ৫৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে ১ হাজার ১৯০ মেট্রিক টনের বেশি মাছ এবং ৫৪৩ লাখ মিটারেরও বেশি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে ৪৮টি মামলা দায়ের, প্রায় ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং ২৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সরকারের কোষাগারে জমা ৬১ লাখ টাকার বেশি
জব্দ করা সামগ্রীর নিলাম থেকে অর্জিত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবছরের এই বিজ্ঞানভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করে। ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদে জেলেদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবারের কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও দেশের অর্থনীতি ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকার জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
