কুষ্টিয়ায় শিশুদের ওপর উচ্চমাত্রার ঔষধ ও ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে ‘চিকিৎসা বাণিজ্যের’ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এইচএস কল্লোলের বিরুদ্ধে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তার ভুল চিকিৎসা এবং খেয়ালখুশি মতো কড়া ঔষধ ব্যবহারের ফলে শিশুদের জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও সোনো টাওয়ারের নিয়মিত চেম্বারে আসা শিশুদের ছোটখাটো সমস্যাতেও অতি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক বা ইনজেকশন প্রয়োগ করেন এই চিকিৎসক। অভিযোগ আছে, এর ফলে শিশুদের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তারা মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, যখন শিশুর অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন দায় এড়াতে ডাঃ কল্লোল তড়িঘড়ি করে রোগীকে কুষ্টিয়ার বাইরে (ঢাকা বা রাজশাহী) রেফার করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার স্থানে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকরা শিশুদের প্রেসক্রিপশন দেখে বিস্ময় ও আফসোস প্রকাশ করেন। উন্নত চিকিৎসার চিকিৎসকদের মতে, এত ছোট শিশুদের শরীরে কেন এত শক্তিশালী ঔষধ প্রয়োগ করা হলো, তা বোধগম্য নয়। অনেক শিশু বর্তমানে আইসিইউ (ICU) বা লাইফ সাপোর্টে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভুক্তভোগী এক অভিভাবক জানান, “সেবার নামে তিনি নিয়মিত ভিজিট বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দেওয়া হাই পাওয়ার ইনজেকশনের কারণে শিশুদের শরীরে অন্য কোনো ঔষধ আর কাজ করছে না।” এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও চরম অবহেলার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এলাকাবাসী এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অনতিবিলম্বে এই চিকিৎসকের লাইসেন্স ও চিকিৎসা পদ্ধতি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এবং কুষ্টিয়া সিভিল সার্জনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন।
