সিলেটের জকিগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সন্দেহভাজন একটি পিকআপ থামাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার (৮ আগস্ট) তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
কারাগারে পাঠানো দুই আসামি হলেন—জকিগঞ্জ উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের ওয়াসার গ্রামের আব্দুল হাসিমের ছেলে মারুফ আহমদ (২০) এবং একই ইউনিয়নের দরগাবাহারপুর গ্রামের কামাল আহমদের ছেলে দিদার আহমদ (২৩)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার রতনগঞ্জ বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন একটি পিকআপকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। তবে চালক সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গাড়িটির পিছু নেয়।
রাত পৌনে ১২টার দিকে সুলতানপুর ইউনিয়নের কেরাইয়া এলাকায় পিকআপটি থামানোর চেষ্টা করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোরশেদ আলম। এ সময় পিকআপের ভেতর থাকা এক ব্যক্তি রামদা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন। এতে গুরুতর আহত হন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে পিকআপটি ফেলে হাওরের দিকে পালিয়ে যায় সন্দেহভাজনরা।
ঘটনাস্থল থেকে একটি রামদা, একটি চাকু ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ। আহত এসআই মো. মোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। শুক্রবার কালীগঞ্জ-আটগ্রাম সড়ক দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় মারুফ আহমদ ও দিদার আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়।
শনিবার গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জকিগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ডাকাত গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশের এক সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। গ্রেপ্তার দুইজনকে ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় আহত পুলিশ সদস্য বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।’
আমার বাঙলা/ রাব্বি
