লক্ষ্মীপুরে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ সবুজ (৫৪) নিজের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত অজ্ঞাতনামা একটি চক্র (মোবাইল নম্বর: ০১৮৯৬২৬৩২৩৫) থেকে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ সবুজের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। কলদাতা নিজেকে তথাকথিত ‘তালাশ’ সদস্য পরিচয়ে তার বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন ও ভুয়া অভিযোগের ভয় দেখায় এবং বিষয়টি সমাধানের নামে দুই লাখ টাকা দাবি করে। পরে ভুক্তভোগী যখন অজ্ঞাত ব্যাক্তিকে জানায় আমরা যোগাযোগ করেছি আপনি তালাশ টিমের সদস্য নয় তখন অজ্ঞাত ব্যাক্তি তাকে দুদকের সদস্য বলে দাবি করে এবং ভুক্তভোগী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলে—টাকা না দিলে এসব ভুয়া অভিযোগ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিয়ে হয়রানি করা হবে।
পরবর্তীতে গত ৬ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে “শিকড় মিডিয়া” নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে ব্যবসায়ী মোঃ সবুজের ছবি, নাম এবং তার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সবুজ ইলেকট্রিক ট্রেডার্স’-এর নাম উল্লেখ করে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর ৩৩ কেভি পুরাতন লাইনের বিডের আইটেমে অনিয়ম,স্টোর থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী ও সবুজ ঠিকাদারসহ প্রায় পনের ড্রাম ৯৫ আরএম কপার তার কালোবাজারে বিক্রয়সহ বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগে অত্যন্ত আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য পোস্ট করা হয়। পরবর্তীতে পেজটি থেকে পোস্টটি মুছে ফেলা হলেও, এতে ভুক্তভোগী ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
চাঁদাবাজি ও ফেসবুকভিত্তিক এই সাইবার অপপ্রচারের প্রতিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী লক্ষ্মীপুর সদর থানায় জিডি করেন।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটিকে চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সান নিউজ/ জামান
