কুমিল্লার চান্দিনায় মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে হাফেজ মো. মনির হোসেন (৩২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য সালিশ চলাকালে তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে দোল্লাই নবাবপুর বাজার এলাকার নবাবপুর মারকাযুন নূর মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে মাথা ও পা ম্যাসেজ করে দেওয়ার কথা বলে একটি কক্ষে ডেকে নেন শিক্ষক মনির হোসেন। সেখানে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মনির হোসেন চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা শিক্ষক মনির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করেন বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর উত্তেজিত লোকজন তাকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশে বসেন। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রাম্য সালিশের বিষয়ে দোল্লাই নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, দুই পক্ষ পরিষদে এসে বিষয়টি মীমাংসা করতে চাইলে গ্রাম্য সালিশে বসা হয়। পরে পুলিশ এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে যায়।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার থানায় মামলা করবে বলে জানিয়েছে।
সান নিউজ/ জামান
