বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড-এআরটি) ঘিরে বিতর্ক এবং এটি বাতিলের দাবি আবারও সামনে এসেছে। তবে সরকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে বেঁধে ফেলা হয়েছে বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে। সমালোচকরা বলছেন, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষা হয়নি।
সরকার বলছে, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক কাঠামোর মধ্যেই করা একটি ‘উইন-উইন’ চুক্তি, যা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দেশের চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই পরিষ্কার হবে। নয় মাসের দীর্ঘ দর-কষাকষির পর শুল্কহার কমানোসহ কিছু সুবিধা অর্জনের দাবি করছে সরকার।
অন্যদিকে বিশ্লেষক ও সমালোচকদের দাবি, চুক্তিটি কাঠামোগতভাবে অসম, বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং এতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে। ইতোমধ্যে চুক্তি বাতিলের দাবি সংসদে উঠেছে, উচ্চ আদালতে রিট দায়ের হয়েছে, আর অর্থনীতিবিদরা আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিচ্ছেন। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখার আহ্বান জানানো হলেও, এর স্বচ্ছতা, বৈধতা, শর্তের ভারসাম্য এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও উদ্বেগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
অন্য দেশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন-পররাষ্ট্রমন্ত্রী: সমালোচনার মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে অন্যান্য দেশের এমন চুক্তির পাশে রেখে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গতকাল ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই। আর আপনি যেটা বললেন, বাংলাদেশ ১৩১টাতে ‘শ্যাল’ বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।
চুক্তি নিয়ে করা আরেক প্রশ্নে খলিল বলেন, এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তোমাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, যেমন আমাদের ৩৯ বা ৩৭ শতাংশ। অন্যান্য সব দেশকে দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কি, সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে। আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি; পলিসিতে আমরা কি কি বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে, অন্যদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, আমাদের ‘পারচেস কমিটমেন্ট’ কত, সব মিলিয়ে দেখেন।
বাংলাদেশের ‘স্বার্থবিরোধী’ এই চুক্তি বাতিলের দাবি যেমন উঠেছে জাতীয় সংসদে, তেমনি এই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সোমবার উচ্চ আদালতে রিট করেছেন এক আইনজীবী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটিকে ‘সুস্পষ্টভাবে অযৌক্তিক এবং কাঠামোগতভাবে অসম’ আখ্যা দিয়ে রিট আবেদনে বলা হয়েছে, এটি কেবল বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেরই পরিপন্থি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্যও ক্ষতিকর।
আবেদনে বলা হয়, এই চুক্তির আলোচনা ও সম্পাদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনকল্যাণ রক্ষায় ‘ব্যর্থ’ হয়েছে। বৃহত্তর জনস্বার্থ রক্ষায় বিচারিক হস্তক্ষেপের দাবিতে এই পিটিশন দায়ের করা হয়েছে।
ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে না-বাণিজ্যমন্ত্রী: বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে; তবে কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুপক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এ চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।
সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ বলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা বাণিজ্য চুক্তি বা এআরটি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সমালোচনার মধ্যে ঢাকা সফরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লিঞ্চ। তার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকায় থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানিয়েছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরো ইতিবাচক হতো।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন ‘অভিযোগও ভিত্তিহীন’।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত-তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি যোগ করেন।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে। তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ বলে বর্ণনা করেন।
মন্ত্রী আরো বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
ভালোভাবে বাস্তবায়নের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে-পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী: বাণিজ্য চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন। ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক ও পারস্পরিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে।
মন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি যেন সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি চুক্তির মধ্যে কোনো অসম বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় রয়েছে কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখছে।
তিনি আরও জানান, যদি চুক্তির কোনো ধারা বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী বা অসম মনে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো জটিলতা নেই বলেও উল্লেখ করে তিনি বলেন, চুক্তির আওতায় পরিবেশ ও জলবায়ু সংশ্লিষ্ট অংশে বাংলাদেশ সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে।
শুরুটা যেমন ও সমালোচনার জন্ম: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
পরে দর কষাকষিতে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আর আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ।
এরপর নয় মাসের দীর্ঘ আলোচনার ফল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করে বাংলাদেশ; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার কমে ১ শতাংশ।
ওই চুক্তিতে পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষের তিন দিন আগে এই চুক্তি হয়।
একটি অনির্বাচিত সরকার হয়েও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা দেখে ‘হতভম্ব’ ও ‘স্তম্ভিত’ হওয়ার কথা বলেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি।
এমন বক্তব্যের জবাবে এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, চুক্তি হওয়ার আগেই এ নিয়ে ‘সম্মতি দিয়েছিল’ বর্তমানে সরকারি দল বিএনপি এবং প্রধান বিরোধী দল জামায়াত।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া এ চুক্তির দরকষাকষিতে সক্রিয় ভূমিকায় ছিলেন সে সময় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয় সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমান।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় ওই দায়িত্বের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তার উপদেষ্টার দায়িত্ব সামলানোর পর বিএনপির নতুন সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
চুক্তিটি সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। পরে ২০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই পাল্টা বা পারস্পরিক শুল্ক আরোপ বাতিল করে দেন।
এই চুক্তি নিয়ে দেশে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে। জাতীয় সংসদে এই চুক্তি বাতিল চেয়েছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন থেকেও চুক্তি বাতিলের দাবি উঠেছে। অর্থনীতিবিদেরাও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে গ্রহণযোগ্য সমাধানের কথা বলেছেন। চুক্তিটি এখনো কার্যকর হয়নি। তবে এরই মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানা পণ্য কেনার চুক্তি করছে। এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে, তখনই কেবল বিষয়গুলো জানা গেছে। যদিও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টরা গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সংসদে আলোচনা করে চুক্তি ঘিরে বিতর্ক বা প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া বর্তমান সরকারের জন্য সহজ হত।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সিনিয়র ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজার অর্থনীতির নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে এই চুক্তি করা হয়েছে। দেশে দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপের চাপ দিয়ে এসব চুক্তি করার বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টই অবৈধ ঘৈাষণা করেছেন। সেটিকে যুক্তি হিসেবে এনেও বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।
তিনি এও বলেন, বিএনপি সরকার আসলে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতিটাকে দেখছে এবং বিবেচনা করছে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেজন্য তারা চুক্তির বিরোধিতায় যাচ্ছে না।
সাননিউজ/আরএ
