যশোরে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত সততা ও বস্তুনিষ্ঠতাকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তার মতে, বিএনপি বরাবরই সাংবাদিকতাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার নীতি অনুসরণ করে এসেছে।
শনিবার (২০ জুন) প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মশালাটি প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
গণমাধ্যমে পরিবর্তনের মধ্যেও যশোরে ছিল স্থিতিশীলতা
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোতে নানা ধরনের পরিবর্তন এবং অস্থিরতা দেখা গেলেও যশোরে তুলনামূলকভাবে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় ছিল। এতে সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, সাংবাদিকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা না করে পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে স্থানীয় গণমাধ্যমে বড় ধরনের কোনো সাংগঠনিক পরিবর্তন ঘটেনি।
আধুনিক সাংবাদিকতায় প্রযুক্তিগত দক্ষতার প্রয়োজন
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই হবে না, তথ্য যাচাই, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্পর্কেও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তার ভাষায়, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হলো সততা, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা এবং বস্তুনিষ্ঠতা। এসব গুণাবলি ছাড়া কোনো প্রশিক্ষণ কার্যকর ফল দিতে পারে না। একই সঙ্গে ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং তথ্য যাচাইয়ের আধুনিক কৌশল আয়ত্ত করাও সময়ের দাবি।
মাদকবিরোধী জনমত গঠনে গণমাধ্যমের ভূমিকা
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনারও আহ্বান জানান এবং বলেন, দায়িত্বশীল সমালোচনা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে এবং ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
৭০ সাংবাদিকের অংশগ্রহণে বিশেষ প্রশিক্ষণ
কর্মশালায় যশোর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় ৭০ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণে আধুনিক সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজম, ভিডিও স্টোরিটেলিং, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণ, ফ্যাক্টচেকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে সংবাদ উপস্থাপনার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক সংগঠন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
