জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের একাংশের নেতারা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অনেক নেতাকে নতুন কমিটিতে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পদবঞ্চিত নেতাদের উদ্যোগে একটি অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
‘ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি’—অভিযোগ নেতাদের
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা দাবি করেন, বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক মামলা, গ্রেফতার, নির্যাতন এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও যারা সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই নতুন কমিটিতে স্থান পাননি।
তাদের ভাষ্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের অবদানের পরিবর্তে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির ঘনিষ্ঠদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পরিচয় ও মূল্যায়নের দাবি
কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে কয়েকজন নেতা বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পরও তারা উপেক্ষিত হয়েছেন। তারা দলীয় হাইকমান্ডের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি দাবি করেন।
বক্তারা আরও বলেন, প্রকৃত কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত না হলে সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
একই সময়ে নতুন কমিটির প্রথম কর্মসূচি
অন্যদিকে, একই দিনে যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করেন। তারা রাজধানীর জিয়া উদ্যানে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে।
সংগঠনের ভেতরে আলোচনা বাড়ছে
নতুন কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক সংগঠনে নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে মতভিন্নতা নতুন কিছু নয়। তবে অসন্তুষ্ট নেতাদের অভিযোগ কীভাবে সমাধান করা হয়, তার ওপর ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ঐক্য অনেকাংশে নির্ভর করবে।
সমাধানের প্রত্যাশা
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, তারা দলীয় নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে তাদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতে যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নজর থাকবে—দলীয় নেতৃত্ব এ অসন্তোষ নিরসনে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
