ভারতের আসাম রাজ্যে বিমান বাহিনীর একটি সামরিক পরিবহন বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পাঁচ সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিধ্বস্ত হওয়ার পর বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বিমানটির পাইলট ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছিলেন। ভারতীয় বিমান বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের পরিচয় প্রকাশ
বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিং, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার, সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা, অগ্নিবীরবায়ু খেমারাম কুমাওয়াত এবং অগ্নিবীরবায়ু দানিশ আলম।
তাদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনী। এক বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাহিনী জানিয়েছে, এই কঠিন সময়ে তারা পরিবারগুলোর পাশে থাকবে।
অবতরণের সময় ঘটে দুর্ঘটনা
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের প্রস্তুতিকালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর নির্ভরযোগ্য পরিবহন বিমান
দুর্ঘটনায় পতিত এএন-৩২ (Antonov AN-32) বিমানটি ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন উড়োজাহাজ হিসেবে পরিচিত। এটি দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট টার্বোপ্রপ বিমান, যা বিশেষভাবে দুর্গম ও প্রতিকূল পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্মিত।
উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল, দুর্গম সীমান্ত এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে রসদ ও জনবল পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে এ বিমান ব্যবহার করে আসছে ভারতীয় বিমান বাহিনী।
বহুমুখী সক্ষমতার জন্য পরিচিত
এএন-৩২ বিমান একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মালামাল, সেনাসদস্য এবং প্যারাট্রুপার পরিবহনে সক্ষম। প্রতিরক্ষা খাতে এর কার্যকারিতার কারণে বিমানটি ভারতীয় সামরিক বহরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একই ধরনের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
শোকের ছায়া প্রতিরক্ষা মহলে
এই দুর্ঘটনায় ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। নিহত সেনাসদস্যদের অবদানের কথা স্মরণ করে বিভিন্ন মহল থেকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
