দেশের বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যু হয়। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার পুত্রবধূ রাজিয়া রহমান।
মোহাম্মদ আজম জানান, দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে তার বাসায় যাওয়া হচ্ছে। দাফন ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত জানানো হলে তা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক লেখক-প্রকাশক ও জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটে নিজ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন দীপন। পরে ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় তার জন্ম।
তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৬৬ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ সাময়িকপত্র সম্পাদনার পাশাপাশি সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ে তার ২০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘রাজনীতি দর্শন’ এবং ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘স্বদেশচিন্তা’সহ একাধিক গ্রন্থ সম্পাদনাও করেছেন তিনি।
সাহিত্য ও গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন।
সান নিউজ/ জামান
