একসময় দম্পতিরা একে অপরের সঙ্গে কথা বলার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতেন। অথচ এখন একই জায়গায় বসে থেকেও অনেকের চোখ আটকে থাকে আলাদা আলাদা স্ক্রিনে। সকালের নাস্তা থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত স্মার্টফোন যেন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি মানুষকে যোগাযোগের সুযোগ করে দিলেও অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার প্রিয়জনের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি করতে পারে।
ফোনে কতটা সময় কাটাচ্ছেন, শুধু সেটিই মূল বিষয় নয়। বরং প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, কথা বলা কিংবা একসঙ্গে হাসি-আনন্দ করার চেয়ে ফোনের স্ক্রিন বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে সেটি সম্পর্কে সমস্যার সংকেত হতে পারে। ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার যেভাবে সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—
পরস্পরের চেয়ে ফোন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা
কাজ শেষে বাড়ি ফিরে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে যদি ফোন হাতে নেওয়াই প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ধীরে ধীরে মানসিক সংযোগ দুর্বল হতে পারে। ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইউটিউমে ব্যস্ত থাকার কারণে দৈনন্দিন ছোট ছোট কথোপকথন কমে যায়। অথচ এসব ছোট কথাবার্তাই সম্পর্ককে গভীর করে। সেগুলো কমতে থাকলে অজান্তেই বাড়তে পারে মানসিক দূরত্ব।
কথা বলার সময়ও উপেক্ষা করা
সঙ্গী গুরুত্বপূর্ণ কোনো কথা বলছেন, ভালো কোনো খবর জানাচ্ছেন কিংবা দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন—আর তখনও যদি অন্যজন ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগী থাকেন, তা হতাশার কারণ হতে পারে। বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সঙ্গীর মনে উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
প্রতিটি নীরব মুহূর্ত স্ক্রলিংয়ে পরিণত হওয়া
সম্পর্কে সবসময় কথা বলার প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো পাশাপাশি বসে নীরব সময় কাটানোও সম্পর্কের জন্য সুন্দর হতে পারে। কিন্তু সেই নীরবতার প্রতিটি মুহূর্ত যদি ফোনের নোটিফিকেশন দেখা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করার কাজে চলে যায়, তাহলে একসঙ্গে থাকার অনুভূতিটাই হারিয়ে যেতে পারে। একই ঘরে থেকেও দুজন তখন নিজেদের আলাদা ডিজিটাল জগতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
স্ক্রিন টাইম নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া
সঙ্গী যদি প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আপনি সবসময় ফোন নিয়ে থাকেন, কিংবা আপনিও একই অভিযোগ করতে থাকেন, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। ফোন ব্যবহারের সময় নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া আসলে শুধু স্ক্রিন টাইমের সমস্যা নয়। এর পেছনে থাকতে পারে উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি কিংবা আগের মতো সঙ্গীকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ। ফলে ফোনটি তখন সম্পর্কের সমস্যার দৃশ্যমান প্রতীকে পরিণত হয়।
প্রিয়জনের চেয়ে অপরিচিতদের জীবনে বেশি আগ্রহ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে পরিচিত-অপরিচিত অনেক মানুষের জীবনের খবর মুহূর্তেই জানা যায়। কোন সেলিব্রিটি কার সঙ্গে সম্পর্কে আছেন বা পুরোনো কোনো বন্ধুর নতুন পোস্ট কী—এসব সম্পর্কে জানা থাকলেও নিজের সঙ্গীর বর্তমান চিন্তা, উদ্বেগ কিংবা আনন্দের বিষয়গুলো যদি অজানা থেকে যায়, তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্কসংকেত।
প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, যোগাযোগের সুযোগও বাড়িয়েছে। তবে সেই প্রযুক্তিই যেন প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বাস্তব যোগাযোগের জায়গা দখল করে না নেয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ একটি সম্পর্ক টিকে থাকে শুধু অনলাইন যোগাযোগে নয়; বরং সময় দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করার মধ্য দিয়ে।
সান নিউজ/ হুমায়রা
