দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থে র্যাবের মতো একটি বিশেষায়িত সংগঠনের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান রহমান বাবর। তবে একইসঙ্গে দক্ষতা, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ ধরনের বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা করার ওপরও জোর দেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলের সদস্যরা অতি তাৎক্ষণিক সমস্যাগুলোই কেবল দেখছেন। বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসন তাদের চোখের সামনে রয়েছে। কিন্তু তার পূর্ববর্তী সময়ে যখন উনারা বিরোধী দলে ছিলেন, তখন ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা রোধ, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং চাঁদাবাজ দমনে র্যাব যে ভূমিকা রেখেছিল—সেটির সফলতায় বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিল। আমার মনে হয়, আমাদের সম্মানিত বিরোধীদলের সদস্যরা সেই অতীতের কথা ভুলে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই র্যাবের কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতা, শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে কখনোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী দলের ওপর র্যাবকে ব্যবহার করা হয়নি।
র্যাব পুনর্গঠন বা পরিবর্তন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানিয়ে বাবর বলেন, প্রধানমন্ত্রী এর আগে র্যাবকে পরিবর্তনের কথা বললেও আমি তখন যুক্তি দিয়েছিলাম যে পরিবর্তন করাটা ঠিক হবে না। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন) নামে যে নতুন সংগঠন আসছে, তা অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কারণ এখনো দেশের ভেতর বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে এবং পার্শ্ববর্তী যেকোনো দেশ অতীতেও বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালিয়েছিল, আজও চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম।
র্যাবের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনার জবাবে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘র্যাবের মাধ্যমে অতীতে যে অন্যায় বা দুষ্কর্ম হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় শিকার তো আমি নিজে। ২০০৭ সালের ২৮ মে মিথ্যা অস্ত্র মামলা দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যে অস্ত্রের সাক্ষী ছিল একজন র্যাবের উইং কমান্ডার। বিষয়টি আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে স্মরণ করি।
পরিশেষে তিনি বলেন, এই ধরনের বাহিনীগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব বর্তায় সরকারপ্রধান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর ওপর। তারা যদি সঠিক নির্দেশনা ও সততার সঙ্গে বাহিনী পরিচালনা করেন, তবেই এর সুফল সাধারণ মানুষ পাবে।
