বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) তৈরি করেছে ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক। বুধবার (১২ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে রেকটির রোল আউট হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিআইবি জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রীদের চাহিদা এবং পরিচালন ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিশেষভাবে এসব কোচ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম রেকে থাকছে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং দুটি পাওয়ার কার।
যাত্রীদের আরাম নিশ্চিত করতে কোচগুলোতে উন্নতমানের রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট রাখা হয়েছে। চেয়ারে একাধিক অবস্থানে হেলানোর সুবিধাও থাকছে।
নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার জন্য কোচগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি, যাত্রী অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় কোচগুলোর ছাদ কাঠামোও শক্তিশালী করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে যাত্রীদের ছাদে ওঠার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চাপ সহ্য করার সক্ষমতা বাড়াতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিআইবি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও কোচগুলোতে আধুনিক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা বাড়াতে ইউরোপীয় মানদণ্ডের ‘ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এ জন্য কোচের বডি শেল কাঠামো নতুনভাবে নকশা করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের রেলওয়ে ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলোর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের প্রচলিত কোচে যেখানে ৭৫০ ভোল্ট ব্যবহার করা হয়, বাংলাদেশের জন্য তৈরি এসব কোচে রাখা হয়েছে ৪১৫ ভোল্টের অপারেশন ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ও কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরির সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ সালে। ওই সময় বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরিকে আরও ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরির দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। সাতটি ভিন্ন ভ্যারিয়েন্টে এসব কোচ সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
