দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী কিম সে-ইন আবারও আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সংগ্রাম, পারিবারিক সংকট এবং অভিনয়জীবনের নানা অজানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
এমবিএনের অনুষ্ঠান ‘স্পেশাল ওয়ার্ল্ড’-এ অতিথি হয়ে কিম সে-ইন জানান, পরিবারের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় তাকে জীবনের অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। অর্থের প্রয়োজনেই একসময় অন্তরঙ্গ ও নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করতে বাধ্য হন বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে কিম বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তার সংস্থার প্রধান তাকে বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে নিয়ে যেতেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। একই সময়ে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “প্রতিটি দিন আমার কাছে নরকের মতো মনে হতো। এমনকি নিজের অস্তিত্বকেও ঘৃণা করতে শুরু করেছিলাম।”
কিম সে-ইন জানান, ব্যবসায়ী পরিবারে জন্ম হলেও একসময় তাদের আর্থিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যে পরিবারের সদস্যদের গুদামঘরে বসবাস করতে হয়েছিল। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে তখন অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি।
তিনি বলেন, “সেই সময় কয়েক কোটি ওনের প্রয়োজন ছিল। পরিবারের পরিস্থিতি এমন ছিল যে দায়িত্ব আমাকে নিতেই হয়েছিল।”
অভিনেত্রী আরও জানান, জীবিকার তাগিদে অন্তরঙ্গ ও নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে বিষয়টি তার বাবা সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন এবং মেয়ের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
বর্তমানে কিম সে-ইন সাতটি পরিত্যক্ত কুকুর, খরগোশ, মুরগিসহ মোট ১৫টি প্রাণীর দেখাশোনা করেন। সংসারের খরচ চালাতে অভিনয়ের পাশাপাশি খাবার সরবরাহের খণ্ডকালীন কাজও করছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ভালোভাবে বাঁচতে চাই। কঠোর পরিশ্রম করে যে বড় পরিবারটি এখন আমার আছে, তাদের শেষ পর্যন্ত আগলে রাখতে চাই।”
২০০৪ সালে সেম বেড, ‘ডিফারেন্ট ড্রিমস’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়জগতে অভিষেক হয় কিম সে-ইনের। পরে ২০১১ সালে এসবিএসের অনুষ্ঠান ‘ওহ মাই গড’-এ অংশ নিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান। তবে ২০১৩ সালে তিনি হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে সরে যান।
সান নিউজ/ জামান
