এক ঝলকে এআইএফএফের আর্থিক সংকট
🖊️ ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি লোকসান এবং ৩০-৪০ কোটি রুপি দেনায় পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
🖊️ নির্ধারিত সময়ে ব্রাজিল ও উরুগুয়েকে পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ আদালতে অভিযোগ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
🖊️ এই ঘাটতি মেটাতে ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে স্থায়ী আমানত (এফডি) ভেঙে ফেলার প্রস্তাব দিয়েছেন।
🖊️ সভাপতির প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সহসভাপতি এন এ হ্যারিসসহ অধিকাংশ সদস্য জানিয়েছেন, এতে ঘরোয়া ফুটবল ও সন্তোষ ট্রফির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।
🖊️ ম্যাচ আয়োজনে নিজস্ব তহবিল থেকে এক টাকাও খরচ হবে না—এমন আগের আশ্বাসের বিপরীতে এখন কোষাগার শূন্য হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ব্রাজিল, উরুগুয়ে এবং পানামার মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে হাই-প্রোফাইল আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে নজিরবিহীন ও চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। মাঠের খেলায় স্বাগতিক ভারত কিছুটা প্রশংসা কুড়াতে সক্ষম হলেও, পর্দার আড়ালের চিত্রটি অত্যন্ত ভয়াবহ।
জানা গেছে, এই তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে ভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে গুনতে হয়েছে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ভারতীয় রুপির বিশাল অংকের লোকসান। যার ফলে বর্তমানে সর্বমোট দেনার পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি রুপিতে। এমন ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয় সামাল দিতে গিয়ে এখন ফেডারেশনের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র কোন্দল ও তুমুল হট্টগোল।
খেলার মাঠে ওই তিন দেশের মোকাবিলা করার পর থেকেই মূলত বিপাকে পড়ে ভারতীয় ফুটবল বোর্ড। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্রাজিল ও উরুগুয়ে ফুটবল দলকে এখনো পর্যন্ত তাদের ম্যাচ ফি বা পাওনা সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি ফেডারেশন।
আন্তর্জাতিক ফুটবল সূত্রে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে যে, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যদি এই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা না হয়, তবে দুই দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা সর্বোচ্চ বিচারালয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে পারে। এরকম চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতি এড়াতে তড়িঘড়ি করে এক বিশেষ সাধারণ সভার ডাক দেওয়া হয়।
রোববার অনুষ্ঠিত সেই উত্তপ্ত সভায় ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে এক অভিনব ও বিতর্কিত প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি উপস্থিত সদস্যদের জানান, এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ঘাটতি সাময়িক মেটানোর জন্য ফেডারেশনের ব্যাংকে থাকা স্থায়ী আমানত বা ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ফেলা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
পরবর্তীতে বহিরাগত কোনো ফান্ড বা স্পন্সর জুটিয়ে সেই আমানতের টাকা আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
কিন্তু সভাপতির এই আত্মঘাতী প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানান ফেডারেশনের অধিকাংশ সদস্য। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের শৌখিনতা দেখাতে গিয়ে যদি সংস্থার স্থায়ী আমানত ভেঙে ফেলতে হয়, তবে তা ভারতীয় ফুটবলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।
এই বিরোধিতায় সবচেয়ে জোরালো ভূমিকা পালন করেন ফেডারেশনের সহসভাপতি এন এ হ্যারিস। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এ ধরনের স্থায়ী আমানত কোনো অবস্থাতেই ভাঙা যাবে না, কারণ এর আগে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
সভায় উপস্থিত ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবং আইএফএর প্রতিনিধি সুব্রত দত্ত সংবাদমাধ্যমের সামনে এই ভেতরের চিত্র ফাঁস করে দেন। যদিও গোপনীয়তার চুক্তির শর্ত উল্লেখ করে সভা চলাকালীন কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে সুনির্দিষ্ট ঘাটতির অঙ্ক গণমাধ্যমকে জানাননি, তবে অন্দরমহলের খবর হলো—আর্থিক ধস এতটাই প্রকট যে তা এখন ঘরোয়া ফুটবলের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সভার এক উৎকণ্ঠিত সদস্য সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, যদি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের চটকদারি আয়োজন করতে গিয়ে ফেডারেশনের কোষাগার ফাঁকা হয়ে যায়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ ফুটবল চলবে কীভাবে? বিখ্যাত সন্তোষ ট্রফির মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতার আয়োজন, তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর খরচ মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ এরপর কোথায় পাওয়া যাবে—সেটির কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি শীর্ষ কর্তারা।
অথচ এই ম্যাচগুলো আয়োজনের ঠিক প্রাক্কালে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক ম্যাচগুলো আয়োজন করতে গেলে ভারতীয় বোর্ডকে নিজস্ব তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ করতে হবে না।
কিন্তু বর্তমানের এই নগ্ন বাস্তবতা এবং স্থায়ী আমানত ভাঙার মরিয়া চেষ্টা সভাপতির সেই পুরনো আশ্বাস ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে এখন বড়সড় ও গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন ঝুলিয়ে দিয়েছে।
সান নিউজ / রাজীব
