ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি আনুষ্ঠানিক শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় এ আয়োজন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়। শোকাহত মানুষের ঢলে শুধু অনুষ্ঠানস্থলই নয়, আশপাশের প্রধান সড়ক ও গণপরিবহন কেন্দ্রগুলোও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেহরানে এসে জড়ো হয়েছেন প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে। জনসমাগম সামাল দিতে গ্র্যান্ড মোসাল্লার প্রবেশদ্বার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের বাইরে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় হাজারো মানুষকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কালো পোশাক পরিহিত শোকাহত নারী-পুরুষ স্টেশনের গেট খোলার অপেক্ষায় অবস্থান করছেন। অনেকেই হাতে জাতীয় পতাকা ও খামেনির প্রতিকৃতি বহন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে তারা অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তাদের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এর আগে কর্তৃপক্ষ জানায়, সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তেহরানের গভর্নর মোহাম্মদ সাদেক মোতামাদিয়ান বলেন, অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে কাউকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রীয় এই শোকানুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে খামেনির প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা, লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমাগম দেশটির রাজনীতি ও জাতীয় আবেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
