দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৮৩৩ শিশু হাম অথবা হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩১ জনে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১০১ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া আরও ৭৩২ জন শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে, যাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে ৭০৪ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৬৭৫ জন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সার্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৯৩ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১২ হাজার ৫২৬ জনের শরীরে।
এ পর্যন্ত মোট ৮৭ হাজার ৯৬৬ জন রোগীকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮৪ হাজার ২১৮ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া এবং সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
