দেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারের কাছে ২ কোটি ৬০ লাখ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংরক্ষিত রয়েছে, যা চলমান জাতীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে যথেষ্ট।
রোববার রাজধানীর আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের প্রথম রাউন্ড উদ্বোধনকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে দেওয়া হবে ভিটামিন ‘এ’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে—
- ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের দেওয়া হবে নীল রঙের ক্যাপসুল
- ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সীদের দেওয়া হবে উচ্চমাত্রার লাল রঙের ক্যাপসুল
সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
ছুটে গেলে পরে সুযোগ মিলবে
মন্ত্রী আরও জানান, কোনো শিশু যদি নির্ধারিত দিনে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ থেকে বাদ পড়ে যায়, তাহলে পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের টিকা ও পুষ্টি সুরক্ষায় নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে সময়মতো নিয়ে আসার জন্য।
শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধনের সময় মন্ত্রী আরও বলেন, নবজাতক শিশুকে জন্মের পর অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। এটি শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
টিকা ব্যবস্থাপনা ও আগের পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য
মন্ত্রী দাবি করেন, অতীতে পর্যাপ্ত টিকা ও ভিটামিন ‘এ’ মজুত না থাকায় কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, বিশেষ করে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছিল।
তবে বর্তমানে সরকার টিকা ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানান তিনি।
হাম টিকায় শতভাগ কভারেজের দাবি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি শতভাগ কাভারেজে পৌঁছেছে। যেসব শিশু এখনো বাদ পড়েছে, তাদেরও খুঁজে বের করে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবহৃত টিকাগুলো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং নিরাপদ, তাই এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
