দেশের ব্যাংকিং খাত লুটপাট এবং জনগণের অর্থ বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান থাকবে।
রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২)-এর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সরকার ইতোমধ্যে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয়েছে, তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং অভিযুক্তদের সম্পত্তি ক্রোক ও বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, যারা দেশের অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর্থিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তির সঙ্গেই আপস করা হবে না।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বড় ঋণখেলাপি ও ব্যাংকিং খাত দুর্বল করার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনগত, প্রশাসনিক ও তদন্তমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
অপর এক সম্পূরক প্রশ্নে এনসিপির সংসদ সদস্য আতীকুর রহমান মুজাহিদ (কুড়িগ্রাম-২) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) প্রসঙ্গ তুললে অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়ে সরকার সচেতনভাবে কাজ করছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কারণে কয়েকটি ব্যাংক পরিচালনা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সরকার মূল্যায়ন করছে। মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তন আনা হবে।
সান নিউজ/ জামান
