বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। তবে বৃষ্টির পানির সঙ্গে ধুলোবালি, দূষিত কণা, ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে লেগে যেতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ঠান্ডাজনিত সমস্যা, সংক্রমণ এবং ত্বকের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বৃষ্টিতে ভিজে গেলে প্রথমেই কোনো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। এতে অতিরিক্ত ভেজা এড়ানো যায় এবং শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব কম পড়ে।
বাড়ি বা কর্মস্থলে পৌঁছেই ভেজা পোশাক বদলে শুকনো কাপড় পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সময় ভেজা কাপড় পরে থাকলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে ত্বকে ছত্রাক ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে।
এ ছাড়া শুকনো তোয়ালে দিয়ে শরীর ও চুল ভালোভাবে মুছে নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় চুল ভেজা থাকলে খুশকি, মাথার ত্বকে চুলকানি কিংবা ছত্রাকের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
সম্ভব হলে বাড়ি ফিরে পরিষ্কার বা হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শরীরে লেগে থাকা ধুলো, ময়লা ও জীবাণু দূর হয় এবং অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা কমে।
বৃষ্টিতে ভিজে আসার পর শরীর গরম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় গরম চা, কফি, স্যুপ বা অন্য কোনো গরম খাবার খেলে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। পাশাপাশি আরামদায়ক ও শুকনো পোশাক পরা উচিত।
গোসল করার সুযোগ না থাকলে অন্তত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁক পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিলে ছত্রাক ও জীবাণুর সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার বৃষ্টির পানি সব সময় বিশুদ্ধ থাকে না। এতে বিভিন্ন ধরনের দূষিত কণা ও জীবাণু থাকতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজে অবহেলা না করে দ্রুত শরীর পরিষ্কার ও শুকনো রাখা উচিত। এমন কয়েকটি সহজ অভ্যাসই বর্ষাকালে সুস্থ থাকার কার্যকর উপায় হতে পারে।
সান নিউজ/ জামান
