🎯 এক নজরে তেল বাজার ও কূটনীতি
♦ মূল পতন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমায় একদিনেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।
♦ বর্তমান দর: ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল ১০৬.৫০ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৭.৮৭ ডলারে নেমে এসেছে।
♦ ইরানের শর্ত: মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সচল করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
♦ ট্রাম্পের অবস্থান: এখনই বড় কোনো সামরিক হামলা নয়, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
♦ ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত: বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আগামী ডিসেম্বরেও তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে আগের পর্যায়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটটি।
মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার চরম আতঙ্ক কাটিয়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাত নিরসনে হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরালো হওয়ায় একদিনের ব্যবধানে তেলের বাজার প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নে নেমে এসেছে। গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) অনুযায়ী দুপুরের দিকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬.৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০৬.৫০ ডলারে এসে ঠেকেছে।
পাশাপাশি, মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দর প্রতি ব্যারেলে ৬.২৫ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে থিতু হয়েছে ৯৭.৮৭ ডলারে।
দোহার মধ্যস্থতা ও হরমুজ প্রণালির নতুন সমীকরণ :
ইরানি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকটের ইতি টানতে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার এই মহতী উদ্যোগে গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের শরণাপন্ন হয়ে ওয়াশিংটনের দরবারে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে দোহা সফর সম্পন্ন করেছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আরোপিত সমস্ত সামরিক ও নৌ নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার শর্তের সঙ্গেই কেবল কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি জড়িত।
ট্রাম্পের কূটনৈতিক চাল ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের নেপথ্য কাহিনী :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী কোনো সামরিক হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি শান্তির পথে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।
এর আগে গত শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের চেয়ে সবসময়ই কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজাটাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং এ মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ তিনি দেননি।
ওপেক প্লাসের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও বাজারের বর্তমান চিত্র :
বিশ্ববাজার যখন তেলের এই বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গতকাল রোববার জরুরি বৈঠকে বসেছিল তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি শীর্ষ সদস্য রাষ্ট্র। সেই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আগামী ডিসেম্বর মাসেও জ্বালানি তেল উত্তোলনের মাত্রা বাড়ানো হবে না; বরং তা আগের নির্দিষ্ট পর্যায়েই বহাল রাখা হবে।
এর ফলে গত অক্টোবর মাস থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির যে স্থগিতাদেশ কার্যকর ছিল, তা আরও এক মাসের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হলো, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক নতুন স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
সান নিউজ / রাজীব
