বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, বিবিসি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও ব্লুমবার্গ এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ, তার শারীরিক অসুস্থতা এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই সাংবিধানিক প্রধান এমন এক সময়ে বিদায় নিচ্ছেন, যখন বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের রাষ্ট্রপতির পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও সরকার পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকে। তাকে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনকেও তার পদত্যাগের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতার বিচারপ্রক্রিয়া এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রপতির অবস্থানও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
হংকংভিত্তিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সারওয়ার আলমের বরাতে জানায়, শারীরিক অসুস্থতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতার কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন। তবে কয়েকটি সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি দাবি করে, রাজনৈতিক কারণেও তার ওপর পদত্যাগের চাপ তৈরি হয়েছিল।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মেয়াদ থাকার পরও ৭৬ বছর বয়সী রাষ্ট্রপতির এই আগাম বিদায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাহাবুদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান তুলে ধরে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা কার্যকর হয়। বিদেশ সফররত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশে ফেরার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
সান নিউজ/ তালহা
