২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের আচরণের কারণে বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তবে ফিফার নিয়মের একটি ফাঁক কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলারের সামনে।
১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন পারেদেসও।
টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে ধাক্কা ও লাথি মারেন পারেদেস। পরে গাভির সঙ্গেও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ওই ঘটনায় নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও জড়িয়ে পড়েন।
প্রথমে জানা গিয়েছিল, ম্যাচের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। তবে পরে নিশ্চিত হয়, ঘটনার সময় তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর-এর তথ্য অনুযায়ী, ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি সহিংস আচরণের জন্য ন্যূনতম তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। ফলে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে পারেদেসের শাস্তি দাঁড়াতে পারে নয় ম্যাচ।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে। ফিফার শাস্তি এড়ানোর ক্ষেত্রে এটিই হতে পারে পারেদেসের সম্ভাব্য পথ।
আর্জেন্টিনা দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পারেদেস বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তিনি জানান, বিষয়টি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে আলোচনা করা প্রয়োজন।
তবে এ ক্ষেত্রে নির্ভর করছে ফিফা তাদের শৃঙ্খলাবিধির ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করবে কি না। এই ধারা কার্যকর হলে নিষেধাজ্ঞা বিশ্বব্যাপী সব ধরনের ফুটবল কার্যক্রমে প্রযোজ্য হবে।
তবে সাধারণত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেই এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই এবার ফিফা ওই ধারা প্রয়োগ নাও করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর যদি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তাহলে পারেদেসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলে সেটি কার্যকর করার সুযোগও সীমিত হয়ে যাবে।
সান নিউজ/ জামান
