গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জয়লাভ করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠে কিয়ার স্টারমার এর প্রধানমন্ত্রীত্বে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য অবজারভার দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগ করতে পারেন।
অবজারভারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার তার গ্রামীণ সরকারি বাসভবন চেকার্সে স্ত্রীকে নিয়ে বিষয়টি আলোচনা করছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা আশা করছেন, তিনি সোমবারের মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেবেন।
তবে সরকারের একটি সূত্র এসব জল্পনা নাকচ করে জানায়, স্টারমার এখনও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে মনোযোগী এবং এ বিষয়ে তার আগের বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
শুক্রবার স্টারমার নিজেও বলেছেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবিলা করবেন এবং দলীয় কোন্দলে জড়িয়ে লেবার পার্টিকে বিভক্ত না করার আহ্বান জানান।
এদিকে, লেবার পার্টির ১০০ জনের বেশি নির্বাচিত এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারের পদত্যাগ অথবা তার সরে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা নতুন নেতা নির্বাচন করলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে তাদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই জরিপে স্টারমারের পক্ষে সমর্থন ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দিলেও স্টারমার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবির পর তার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়।
গত দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমারের সরকার থেকে ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এদের অনেকেই তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন অথবা নীতিগত বিষয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্ব ধরে রাখতে লড়াই করবেন এবং এ ধরনের প্রতিযোগিতা দেশের জন্য ভালো হবে না।
সান নিউজ/আরাফাত
