বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি ও রিটেইল জায়ান্ট ‘অ্যামাজন’-এর সিনিয়র ম্যানেজার (লেভেল-৬) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাবেক শিক্ষার্থী মাহামুদুল ইসলাম খান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম ব্যাচ এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নোবিপ্রবি থেকে স্নাতক (সম্মান) সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমান মাহামুদুল। সেখানে দেশটির অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ‘ফ্রেডরিখ শিলার ইউনিভার্সিটি জেনা’ থেকে ‘ইকোনমিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চেঞ্জ’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
স্নাতকোত্তর শেষেই তিনি সরাসরি অ্যামাজনে কর্মজীবন শুরু করেন। মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে যোগদানের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে ‘অপারেশনস লিড’ (লেভেল-৩) পদে উন্নীত হন। এর পর মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে লেভেল-৩ থেকে সাফল্যের সঙ্গে লেভেল-৬ (সিনিয়র ম্যানেজার) পদে পদোন্নতি লাভ করেন তিনি।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে এক ফেসবুক পোস্টে মাহামুদুল ইসলাম খান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সবকিছুই আল্লাহর অশেষ রহমতে সম্ভব হয়েছে। আমাদের শুধু চেষ্টা করে যেতে হবে, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। ২০২২ সালের এপ্রিলে যখন অ্যামাজনে অপারেশনস লিড হিসেবে জয়েন করি, তখন ভেবেছিলাম অপারেশনস ম্যানেজার (লেভেল-৬) হতে হয়তো ১০ বছর লেগে যাবে। বিশেষ করে নন-জার্মান এবং নন-ইউরোপীয়ান হিসেবে পথটা আরও কঠিন ছিল। কিন্তু অ্যামাজন আমাকে শিখিয়েছে—এখানে পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব আর কাজের প্রভাবই সবচেয়ে বড় যোগ্যতা।
তিনি আরও যোগ করেন, অ্যামাজনের নিয়মগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন, আর এ কারণেই তারা বিশ্বে অনন্য। নিজের কোম্পানিতে কর্মরত থাকার পরও লেভেল-৫ থেকে লেভেল-৬-এ যাওয়ার জন্য আমাকে ৫ জন কর্মকর্তার কাছে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ইন্টারভিউ দিতে হয়েছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের সম্মান যেন বজায় রাখতে পারি, সেজন্য সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি ও ই-কমার্স কোম্পানি অ্যামাজনে ‘লেভেল-৬’ (L6) অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি মিড-টু-সিনিয়র স্তরের ব্যবস্থাপনা পদ। এই পদের বার্ষিক মোট বেতন (প্যাকেজ) সাধারণত ১,৮০,০০০ থেকে ৪,৫০,০০০+ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকার সমতুল্য।
সান নিউজ/ জামান
