মাদক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের আইনজীবী ও তার স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে এক আসামির বিরুদ্ধে। পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ফরাজীকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকার ছৈলাবুনিয়া থেকে তাকে আটক করা হয়। পরদিন রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ আগস্ট বিকেলে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ছৈলাবুনিয়া এলাকায় হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলায় আইনজীবী মো. সামিউল আলম এবং তার স্ত্রী মোছা. শাহনাজ পারভীন (৩৫) গুরুতর আহত হন।
হামলার পর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশের ভাষ্য, হামলার সময় সামিউল আলমকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। স্বামীকে রক্ষা করতে তার স্ত্রী এগিয়ে এলে তাকেও হামলার শিকার হতে হয়। পরে আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানায় মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মাদক মামলায় তিনি আইনজীবী সামিউল আলমকে নিজের পক্ষে নিয়োগ করেন।
ওই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় গত ৯ জুন নির্ধারিত তারিখে আসামির পক্ষে আদালতে সময় চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবী। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ না করে তা নামঞ্জুর করেন এবং জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির বিষয়টি জানার পর আইনজীবী সামিউল আলমের ওপর ক্ষুব্ধ হন জাকির।
তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সামিউল আলম ছৈলাবুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছেন জানতে পেরে জাকির হোসেন কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে সেখানে যান।
সেখানে পৌঁছানোর পর সামিউল আলমের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন স্বামীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করা হয়।
স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই মির্জাগঞ্জ থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল তদন্তে নামে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের একপর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জাকির হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
তবে হামলার পর তিনি এক জায়গায় বেশিক্ষণ অবস্থান না করে দ্রুত স্থান পরিবর্তন করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে কিছুটা সময় লাগে।
শেষ পর্যন্ত শনিবার দুপুরে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনজীবী দম্পতির ওপর হামলার ঘটনায় বাদীর আবেদনের ভিত্তিতে মির্জাগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।
পুলিশ বলছে, হামলার ঘটনায় জাকিরের সঙ্গে আরও কেউ সরাসরি জড়িত ছিল কি না কিংবা হামলার আগে বা পরে কেউ তাকে সহায়তা করেছে কি না—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
তার ভাষ্য, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির সহায়তায় হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরও শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হবে। মামলার তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সান নিউজ/ জামান
