বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের আকাশে বিদ্রোহ, সাম্য ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে জ্বলজ্বল করছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
সোমবার (২৫ মে) তার ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি ঘিরে দেশজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে এই অনন্য সাহিত্যিককে।
শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ ছিলেন নজরুল। তার লেখনীতে যেমন ছিল বিদ্রোহের ঝংকার, তেমনি ছিল মানবতার আহ্বান। ধর্ম, বর্ণ কিংবা শ্রেণিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে এক কাতারে দেখার যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
মাত্র চার দশকের সাহিত্যজীবনে কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি। ‘বিদ্রোহী’, ‘সাম্যবাদী’, ‘অগ্নিবীণা’ কিংবা ‘দোলনচাঁপা’ -তার প্রতিটি সৃষ্টিই বাংলা সাহিত্যে নতুন শক্তি ও চেতনার জন্ম দিয়েছে।
নজরুলের সাহিত্যকর্মে উঠে এসেছে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নারীর অধিকার এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন তিনি। ইসলামী সংগীতের পাশাপাশি শ্যামাসংগীত ও ভক্তিগীতিতেও ছিল তার সমান বিচরণ।
জীবদ্দশায় যেমন মানুষকে ভালোবেসেছেন, মৃত্যুর পরও তেমনি মানুষের কাছেই রয়ে গেছেন এই কবি। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়। প্রতিদিন সেখানে ভিড় করেন নানা বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা বলছেন, নজরুলকে শুধু স্মরণ নয়, তার আদর্শ ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে তার সাহিত্য ও সংগীতকে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্যোগও চলছে।
জন্মজয়ন্তীতে ফুল, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে বাঙালির প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। সকালে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান, কবির পরিবার, ভক্ত-অনুরাগী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।
কবির কালজয়ী সৃষ্টি এবং বাংলা সাহিত্যে তার অনন্য অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুরাগীরা বলছেন, সাম্যের সমাজ গড়ে তুলতে হলে নজরুল চর্চা আরও বাড়াতে হবে।
সরকারি উদ্যোগে আজ থেকে পালন করা হবে বছরব্যাপী নজরুল বর্ষ। গত শনিবার বিকালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিকে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তীতে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। এ ছাড়া পাঠ্যপুস্তকে তার কবিতা ও গান বাত্যতামূলক করাও দাবি জানানো হয়।
সোমবার গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি খিলখিল কাজী।
এ সময় কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলী ইংরেজিতে অনুবাদ করে তার কর্মকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
সাননিউজ/আরএ
