সাভারের আশুলিয়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ডেইরি ফার্মের ভেতরে ঢুকে এক ব্যক্তি ও তাঁর দুই ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হামলায় জয়নাল মিয়া (৪৮) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। পরে আহতদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মো. সজিব শেখ (২২) বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আবেদ আলী (৪২) নামে একজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনকে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।
সজিব শেখের অভিযোগ, তিনি ও তাঁর বাবা জয়নাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়া থানাধীন কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে কর্মরত। একই প্রতিষ্ঠানে আবেদ আলীর চাচা মো. শহর আলী (৫৫) কর্মরত রয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে আবেদ আলী ও শহর আলীর সঙ্গে ডেইরি ফার্ম এলাকায় মসজিদের আওতাভুক্ত একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিরোধ চলে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সজিব দাবি করেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আবেদ আলী ডেইরি ফার্মের ভেতরে ব্যবসা করতে হলে তাঁর বাবার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাঁর বাবা ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবেদ আলী তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। চাঁদার টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর বাবাকে গুরুতরভাবে আহত করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ আগস্ট সকাল আনুমানিক ১১ টার দিকে সজিব শেখ, তাঁর বাবা জয়নাল মিয়া এবং বড় ভাই রাসেল মিয়া ডেইরি ফার্মের কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আবেদ আলীসহ অজ্ঞাতনামা পাঁচ-ছয়জন সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁরা আগের দাবিকৃত ২০ হাজার টাকা চাঁদা চান। জয়নাল মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা পুকুর থেকে আহরণ করা মাছ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সজিবের অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর বাবা জয়নাল মিয়াকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সজিব ও তাঁর বড় ভাই রাসেল মিয়াকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনাটি বাইরে প্রকাশ করলে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং যেকোনো সময় জানমালের বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহিরাগত হয়েও চাচা শহর আলীর চাকুরী সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে সে সরকারী কোয়ার্টারে বসবাস করে আসছে। বিশাল আয়তনের এই ডেইরী ফার্মের ভিতরেই তার অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে আবেদ আলী।
আবেদ আলী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় আহত জয়নাল হাজারীরর ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাজিব বলেন, আবেদ আলী ও তার বাহিনী আমার বাবার সাথে যা করেছে এটা কোনভাবেই কাম্য না। এই সিন্ডিকেটটা ডেইরির ভিতরে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকান্ডের পাশাপাশি মাদকের আখড়া বানিয়েছে। যেখানে বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক সেবীরা এসে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলে যায়। এই আবেদ আলীসহ এই চক্রের সদস্যদের উপযুক্ত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলঅম বলেন, ইতিমধ্যে হামলা ও মারধরে ঘটনায় অভিযুক্ত আবেদ আলী চাচা শহর আলীকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানের ভিতরে যাতে বহিরাগত লোকজন বসবাস করে কোন অপকর্ম করতে না পারে সেজন্য সবাইকে নোটিশ দেয়া হয়েছে। কারও বাসায় অতিরিক্ত লোকজন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
লিখিত অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল রানা বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সান নিউজ/ জামান
