ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে সপ্তাহজুড়ে বিস্তৃত কর্মসূচির সূচনা হয়েছে। ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে এই আয়োজন ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আনুষ্ঠানিকতা টানা সাত দিন ধরে চলবে। এতে বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতা, সরকারি প্রতিনিধি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
খামেনির দাফনের সময়সূচি আগে নির্ধারিত থাকলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার বাসভবনে বোমা হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ তিনি নিহত হন বলে জানা যায়।
ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন এবং ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে ভূমিকা রাখেন।
৭ দিনের কর্মসূচির বিস্তারিত:
৪-৫ জুলাই:
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে তার কফিন রাখা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এই স্থানটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশস্থল হিসেবে পরিচিত।
৬-৭ জুলাই:
রাজধানী তেহরান থেকে কোম শহরের উদ্দেশ্যে বিশাল শোভাযাত্রা বের হবে। শিয়া মুসলিমদের কাছে কোম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র, যেখানে বহু আলেমের শিক্ষা ও গবেষণার ইতিহাস রয়েছে।
৮ জুলাই:
ইরাকের নজফে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে। এরপর নজফ ও কারবালা শহরে বড় আকারের শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই শহর শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
৯ জুলাই:
সবশেষে খামেনির মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। মাশহাদ শহরটি তার জন্মস্থান হওয়ায় এই স্থানটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিশ্ব রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে প্রভাবশালী এই নেতার বিদায়ে আয়োজিত এই দীর্ঘ কর্মসূচি শুধু একটি দাফন নয়, বরং একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
