দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে যেসব উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তব চিত্র এখন খুঁজে দেখা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে দেশের সমতল এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশে এত সমস্যা এখনও বিরাজমান দেখে আমি বিস্মিত হই। কেননা ১৭ বছরে এগুলোর সমাধান হওয়ার কথা ছিল। সে সময় এগুলো সমাধান করা হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।”
তিনি আরও বলেন, “আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়? এখন সব চাপ এসে পড়েছে আমাদের সরকারের ওপর। জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চেষ্টা করছি সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে।”
সভায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় কনভেনশন আয়োজন, জাতিগত পরিচয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয় কালচারাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধা এবং বিভিন্ন প্রকল্প বা সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নামে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা হচ্ছে, যেখানে কোনো জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য থাকবে না।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে দুর্বল অবস্থায় পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অর্থপাচারের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার পর্যায়ক্রমে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “এখনকার যুদ্ধটা অনেক বড়। এখানে টিকে থাকতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং আরও ভালো অবস্থানে কীভাবে যাওয়া যায়, তা ভাবতে হবে।”
দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব খাতে উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কিডনি ডায়ালাইসিস ও হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রীর ওপর কর কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য আন্না মিনজ, সংস্কৃতিকর্মী সঞ্জীব দ্রংসহ বিভিন্ন জেলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সান নিউজ/ জামান
