নারায়ণগঞ্জে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য ডাইং কারখানায় প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে অবাধে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর বাড়ছে চাপ। ফলে আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর।
শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত নারায়ণগঞ্জে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানা, ঘনবসতি ও শত শত বহুতল ভবনের কারণে এমনিতেই পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ডাইং কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রমে বিপুল পরিমাণ ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতিবছর মার্চ মাসে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানির স্তর নির্ণয় বা পরিমাপ করা হয়। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক ফুট করে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামছে। তবে নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক। এ জেলায় প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের তথ্যে উঠে এসেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা, কুতুবপুর, এনায়েতনগর, কাশিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সবচেয়ে বেশি নিম্নমুখী বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব এলাকায় গড়ে ওঠা অধিকাংশ ডাইং কারখানার পানির চাহিদা মেটানো হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি উত্তোলনের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পানির স্তরের ওপর। ধীরে ধীরে আরও নিচে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে নির্বিচারে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিরাপদ পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি পরিবেশগত ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগের। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত পানি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে ভূমির স্থিতিশীলতা ও ভূ-প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
তাই ভূগর্ভস্থ পানির নির্বিচার উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ, শিল্পকারখানায় বিকল্প পানির উৎস ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং পানির স্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
