কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি প্রায় ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও দীর্ঘ তিন বছর ধরে কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে। ভবনে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, নেই নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম।
অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকায় জন্মনিবন্ধন, প্রত্যয়নপত্র, ভিজিএফ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ নানা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম এখন ভবনে নয়, বরং চেয়ারম্যানের বাড়ি ও হাটের চায়ের দোকানে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে এসে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় পরিষদ ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। ভবনের ভেতরেও নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। ইউপি সদস্যদের নির্ধারিত কক্ষে বসার সুযোগ নেই। মোল্লারহাট বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসেই অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কাজ সারছেন। অন্যদিকে তথ্যসেবা কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে বাজারের একটি বিকাশ ও ফ্লেক্সিলোডের দোকানে। এমনকি ইউপি সদস্যদের মাসিক সভাও চায়ের দোকানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।
ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, পরিষদের মাঠ ভরাট ও বিদ্যুৎ বিলের জন্য একাধিকবার সরকারি টাকা উত্তোলন করা হলেও তা যথাযথভাবে ব্যয় হয়নি। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর আর সংযোগ চালু হয়নি।
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যানের টালবাহানায় তিন বছর কেটে গেল। কবে বিদ্যুৎ আসবে জানি না।”
ইউপি সদস্য মো. শফি ও আব্দুল হামিদ শেখ বলেন, “বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আমরা টাকা তুলে চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। কিন্তু তিন বছরেও সংযোগ চালু হয়নি। সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “এত বড় ভবন করে কোনো লাভ হয়নি। মানুষ সেবা পায় না। পরিষদে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।”
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জন্মনিবন্ধন কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে আসে। কিন্তু পরিষদ বন্ধ দেখে ফিরে যেতে হয়।
চেয়ারম্যানের বাড়িই এখন ইউনিয়ন পরিষদে পরিণত হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবলু মিয়া বলেন, “এলাকার পরিবেশ ভালো না হওয়ায় নিয়মিত পরিষদে বসা হয় না। হাট-বাজার ও বাড়িতে বসেই কাজ করি। বিশেষ প্রয়োজন হলে পরিষদ খোলা হয়।”
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বিল পরিশোধ করে এক মাসের মধ্যে সংযোগ চালু করা হবে।”
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আমার বাঙলা/আরএ
