২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপটা আক্ষেপের নাম হয়েই আছে ভারতের। আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ফাইনালে সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে শিরোপা হারাতে হয়েছিল। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে একই ভেন্যুতে আর কোনও ভুল করেনি। করেছে শাপমোচন। প্রথমবার ঘরের মাঠে জিতেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ! ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ৯৬ রানে।
কিউইদের হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। তৃতীয় শিরোপা জেতা প্রথম দল তারা। শুধু কি তাই? টানা দ্বিতীয়বার নিশ্চিত করেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাতে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তাদের আধিপত্যই জানান দিচ্ছে।
২৫৬ রানের লক্ষ্যে যেমনটা লড়াই করা উচিত ছিল তার ধারেও যেতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। একপেশে ম্যাচে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অলআউট হয়েছে কিউইরা।
যাকে ঘিরে কিউইরা তাড়ার স্বপ্ন দেখছিল সেই ফিন অ্যালেনই তৃতীয় ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে সাজঘরে ফেরেন। তার ওপর পাওয়ার প্লেতেই ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। সেই চাপ আর সামাল দিতে পারেনি।
ব্যাট হাতে লড়াই করেছেন কেবল ওপেনার টিম সেইফার্ট (৫২) ও মিচেল স্যান্টনার (৪৩)। সেইফার্টের ২৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ৫টি ছক্কার মার। তাছাড়া অধিনায়ক স্যান্টনারের ৩৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ২টি ছয়। বাকি ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি।
বল হাতে জসপ্রীত বুমরাই ছিলেন মূল কারিগর। ১৫ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ২৭ রানে তিনটি নিয়েছেন অক্ষর প্যাটেল। একটি করে নেন হার্দিক পান্ডিয়া, বরুণ চক্রবর্তী ও অভিষেক শর্মা। শিরোপা জয়ের পথে বড় অবদান রাখায় টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন। মোট ৩২১ রান করেছেন তিনি।
এর আগে টস হেরেও শুরুতে ব্যাট করে রানের পাহাড় গড়ে ভারত। ৫ উইকেটে সংগ্রহ করে ২৫৫ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। আহমেদাবাদের মাঠেও সর্বোচ্চ স্কোর এটি। সার্বিকভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অবশ্য তৃতীয় সর্বোচ্চ।
টস জিতেও ভারতের ব্যাটারদের আটকাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডের বোলিং। উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়া টপের তিন ব্যাটার সাঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা ও ইশান কিশানের ফিফটি বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছে। শুরুর জুটিতে পাওয়ার প্লেতে তাণ্ডব চালান অভিষেক। ১৮ বলে তুলে নেন ফিফটি। তাতে ৬ ওভারে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৯২ রান। অষ্টম ওভারে অভিষেককে ৫২ রানে থামান রাচিন রবীন্দ্র। তার ২১ বলের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছয়। তাতে ভাঙে ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি। তখন অবশ্য স্যামসন এতটা আগ্রাসী ছিলেন না। পরে যেভাবে বেধড়ক পেটাচ্ছিলেন। তাতে তিনশ রানও সম্ভাব্য মনে হতে থাকে। সঙ্গে ইশানও পেটাচ্ছিলেন। কিন্তু ১৬তম ওভারে জেমস নিশামের আঘাতে একে একে সাজঘরে ফেরেন স্যামসন (৮৯), ইশান কিষান (৫৪) ও সূর্যকুমার যাদব (০)। স্যামসনের ৪৬ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৮টি ছয়। ইশানের ২৫ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা। এই ছন্দপতন প্রভাব ফেলে ভারতের ওপর। ১৮.২ ওভারে পান্ডিয়াও (০) হেনরির বলে ফিরলে চাপ আরও বাড়ে স্বাগতিকদের ওপর।
তার পরেও দলের স্কোর আড়াইশ পার হতে বড় ভূমিকা রাখে শেষ দিকে শিবম দুবের বিধ্বংসী ব্যাটিং। ৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।
৪৬ রানে ৩ উইকেট নেন নিশাম। একটি করে নিয়েছেন ম্যাট হেনরি, রাচিন রবীন্দ্র।
