ফিফা সভাপতির আসনে আরও এক মেয়াদ থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন পেলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সাম্প্রতিক সময়ে নানা বিতর্কে চাপে থাকা এই ফুটবল প্রশাসকের পাশে দাঁড়িয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। টোকিওতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে রাজনৈতিক সমীকরণ যখন নতুন মোড় নিচ্ছে, ঠিক তখনই এশিয়া মহাদেশ থেকে বড় ধরনের সমর্থন পেলেন বর্তমান ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সর্বশেষ বৈঠকে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসির এক বিশেষ সভায় সংগঠনটির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, এশিয়ার সদস্য দেশগুলোর বড় অংশই বর্তমান ফিফা সভাপতির কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। ফলে নতুন মেয়াদের লড়াইয়ে তাকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত রয়েছে মহাদেশটির ফুটবল পরিবার।
বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থাটির নেতৃত্ব নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে একটি প্রস্তাব সামনে আসার পর বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন না হলেও বিষয়টি ইনফান্তিনোর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে এবং তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেক ফুটবল প্রশাসক।
এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা । ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনার জেরে ইউরোপ এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি ফুটবল সংস্থা প্রকাশ্যে আপত্তি জানায়। এমনকি কিছু জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন ফিফা সভাপতির পদে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে ওঠে।
তবে সাম্প্রতিক এএফসি বৈঠকে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অতীতে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এশীয় ফুটবল নেতারা। তাদের মতে, বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন, সদস্য দেশগুলোর অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০১৬ সালে ফিফার শীর্ষ পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ইনফান্তিনো বেশ কিছু বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন। তার সময়েই বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, নারী ফুটবলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং বিভিন্ন অঞ্চলের ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। তবে একই সময়ে ফিফার বাণিজ্যিক নীতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও তাকে বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে ঘিরে এখনো শক্ত অবস্থানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মাঠে নামার ঘোষণা দেননি। প্রার্থিতা জমা দেওয়ার সময়সীমা যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এ অবস্থায় এশিয়ার সমর্থন তার জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফুটবলবিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের কিছু অংশে সমর্থন কমলেও এশিয়া, আফ্রিকা এবং অন্যান্য অঞ্চলের বড় অংশ যদি ইনফান্তিনোর পাশে থাকে, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে তিনি শক্তিশালী অবস্থান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। টোকিওর বৈঠক সেই বার্তাই আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
সান নিউজ / রাজীব
