সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নতুন কমিটিতে কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিলুপ্ত করা হয়েছে দলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ, যুক্ত হয়েছে নতুন সম্পাদকীয় কাঠামো।
আজ শুক্রবার দলের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পেজে ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন এই কাঠামোয় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে উন্নীত করা হয়েছে। একইভাবে সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব।
পুনর্গঠনের ফলে দলের সাংগঠনিক বিন্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগের কমিটিতে থাকা মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক, সংগঠক এবং যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের মতো কয়েকটি পদ বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে নেতৃত্বের কাঠামো আরও সংক্ষিপ্ত ও কেন্দ্রীয়কৃত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন কমিটিতে আগের কয়েকজন শীর্ষ নেতার দায়িত্বেও পরিবর্তন এসেছে। সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব এবং আবদুল হান্নান মাসউদ এখন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে নাহিদা সারোয়ার নিভা পেয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব।
এবারের পুনর্গঠনে সম্পাদকীয় কাঠামোও যুক্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩২টি সম্পাদকীয় পদ সৃষ্টি করে সমসংখ্যক নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সহসম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সদস্য পদেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নতুন কয়েকটি মুখও যুক্ত হয়েছে। শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি এ কে ফ্লোরা, বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকার এবং জাতীয় পার্টির সাবেক উপদেষ্টা তারেক এ আদেলকে যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ড, জাতীয় নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদের মূল্যায়নের প্রতিফলন দেখা গেছে এই পুনর্গঠনে। বিশেষ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার অবস্থান দলীয় কাঠামোয় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
পুনর্গঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম অংশ হিসেবে রয়েছেন। এছাড়া দলের একাধিক সংসদ সদস্যও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে স্থান পেয়েছেন।
দলীয় সূত্র বলছে, আগে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ‘সুপার ইলেভেন’ কাঠামোর পরিবর্তে এখন কার্যত ‘সুপার সিক্স’ মডেলে পরিচালিত হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তবে রাজনৈতিক পর্ষদের ১৬ সদস্যকে নিয়ে দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বলয় কার্যকর থাকবে।
কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টনে দক্ষতা এবং কার্যকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
সান নিউজ / রাজীব
