পূজার ছুটির রেশ কাটতে না কাটতেই কুয়াকাটায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী বিচ কার্নিভাল। এ আয়োজনকে ঘিরে সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে মুখর হয়ে উঠেছে সমুদ্রসৈকত। হোটেল-মোটেলগুলো প্রায় পুরোপুরি বুকড হয়ে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে আবাসন সংকট। একই সঙ্গে সৈকতজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে আজ শুক্রবার কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পূজার ছুটি শেষ হলেও কার্নিভালকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দুই দিনের এই আয়োজনে কয়েক লাখ পর্যটক কুয়াকাটা ভ্রমণ করতে পারেন।
সমুদ্রের নোনা জলে গোসল, সৈকতে খেলাধুলা, ছবি তোলা ও পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের। সৈকতের জিরো পয়েন্ট ছাড়াও লেম্বুর বন, তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন, গঙ্গামতি, শুঁটকি পল্লী ও লাল কাঁকড়ার চরে পর্যটকদের বাড়তি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের পাশাপাশি কার্নিভালের নানা আয়োজন ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কার্নিভালকে সামনে রেখে পুরো কুয়াকাটাকে সাজানো হয়েছে উৎসবের আমেজে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সৈকত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও এলইডি ডিসপ্লে। দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিচ ফুটবল, বিচ ম্যারাথন, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুঁথিপাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাউল সংগীত, বিচ ভলিবল, সেলিব্রিটি ক্রিকেট, ফ্যাশন শো এবং আতশবাজির মতো নানা কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
বিচ কার্নিভালের রঙিন আয়োজনে কুয়াকাটায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পর্যটকদের ঢল সামাল দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। সৈকতজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনকে কেন্দ্র করে পর্যটন শহরটি পরিণত হয়েছে এক প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়। তবে পর্যটক সমাগম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবাসন সংকট ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগও সামনে আসছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরাও পরিবেশনা করবেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
কার্নিভাল আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে কুয়াকাটার অধিকাংশ হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত বুকিং ছাড়া আসা অনেক পর্যটককে আবাসন সংকটে পড়তে হয়েছে। অতিরিক্ত চাহিদার সুযোগে কিছু সেবা খাতে অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়া, খাবার এবং কিছু বেসরকারি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন পর্যটক।
তবে হোটেল মালিকদের সংগঠনের দাবি, সংগঠনের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত ভাড়াতেই কক্ষ ভাড়া দিচ্ছে। কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌ-পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম ও তথ্যসেবা কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের সঙ্গে কোনো ধরনের অসদাচরণ কিংবা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কার্নিভালকে ঘিরে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপদ ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই বাড়তি তৎপরতা।
সান নিউজ / রাজীব
