দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ভুলত্রুটি দেখা দিলে তা বিনা দ্বিধায় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনা হাসিমুখে গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং কাজের মাঝে কোনো বিচ্যুতি ধরা পড়লে তা দ্রুত সংশোধনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে সমালোচনার আড়ালে অসত্য তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো থেকে বিরত থাকার জন্যও কঠোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ উন্নয়ন পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এই কথা বলেন। এ সময় জনতা ও রাষ্ট্রের সেবক হিসেবে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠিত করাই সবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জনগণের কাছে নির্বাচিত সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
সভায় ভূগর্ভস্থ পানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার কমিয়ে আনার ওপর তীব্র তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাটির নিচের পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এর অংশ হিসেবে নদী ও পুকুরের পানি আধুনিক প্রযুক্তিতে পরিশোধন করে নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ বাড়াতে হবে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে দেশের বড় শহরগুলোতে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের বহুমুখী উদ্যোগ নিতে হবে এবং ছোট পৌরসভাগুলোতে সাশ্রয়ী ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সান নিউজ/রাজীব
