দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা ও কারাবরণের পরও স্বচ্ছলতা ফেরেনি পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাতুব্বর ও তার স্ত্রী, পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক স্বাম্মী আক্তার রশ্মির জীবনে। দলের সুসময় এলেও নিজেদের জীবনে সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া না লাগায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি।
রিয়াজ মাতুব্বর জানান, ২০১৩ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে ভর্তি হন। ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের হাতে আটক, নির্যাতন ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন রিয়াজ। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ সালের নির্বাচনী আন্দোলনে পিরোজপুরে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার কথাও জানান।
রিয়াজ বলেন, মামলা, হামলা কিংবা কারাবরণ কোনো কিছুই তাকে রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি। তবে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে পরিবারের ওপর। তিনি কারাগারে থাকলে স্ত্রীকে স্বামী ছাড়া এবং সন্তানদের বাবাকে ছাড়া থাকতে হয়েছে।
রশ্মি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে গর্ভবতী অবস্থাতেও তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। নিজের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে মিছিল ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছেন বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক আবেগ থেকেই সন্তানের নাম ‘খালেদা খানম পুতুল’ রাখা হয়েছে বলে জানান রশ্মি।
এ ছাড়া বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা প্রচারে নিজের অর্থ ব্যয় করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে লিফলেট ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের কথাও জানান তিনি। তবে বর্তমানে আর্থিক সংকটের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও চিকিৎসার খরচ বহন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান রশ্মি।
রিয়াজ-রশ্মি দম্পতি বলেন, তারা কারও করুণা চান না কিংবা পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করেননি। দলের দুঃসময়ে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের ত্যাগ যেন ভুলে যাওয়া না হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পরও নিজেদের ভালো না থাকার আক্ষেপও জানান তারা।
পিরোজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, রিয়াজ-রশ্মি দম্পতি বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি। দলের সুসময় তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির বিরোধী দলের রাজনীতির সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন রিয়াজ-রশ্মি দম্পতি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময় পরিবারের ছোট সদস্যরাও নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে। নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও বর্তমান বাস্তবতার কথা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তুলে ধরে তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের আবেদন জানাতে চান তারা।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
