বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকেই ধাপে ধাপে শুরু হতে পারে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই নির্বাচনী যাত্রার সূচনা হবে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভোটের মাধ্যমে, এরপর পর্যায়ক্রমে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। চার হাজারেরও বেশি ইউনিয়ন পরিষদ, শতাধিক পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি তিন মাসে অন্তত দুটি ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে প্রশাসনিক চাপ কমবে, অন্যদিকে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাও আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কমিশন।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া প্রায় সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। নতুন আইন সংশোধনের পর এখন আচরণবিধি চূড়ান্ত করার কাজও চলছে।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুতি জোরদার
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণ—ভোটার তালিকা, ব্যালট বাক্স, সিল, গালা ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনাও তৈরি করা হচ্ছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচন আয়োজনের মৌলিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সময়মতো আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পেলেই কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন আচরণবিধি ও রাজনৈতিক অবস্থান
নির্বাচন কমিশন দলীয় প্রতীক ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য নতুন আচরণবিধির খসড়া তৈরি করেছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণের সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পোস্টার ব্যবহার না করা এবং প্রতীকভিত্তিক প্রচারণা সীমিত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
একজন কমিশনারের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো দলীয় প্রতীকের সরাসরি ব্যবহার থাকবে না, যা নির্বাচনকে আরও নিরপেক্ষ করতে সহায়ক হবে।
ইভিএম ছাড়াই ভোট ও সিইসির অবস্থান
নির্বাচন কমিশনের আরেক সদস্য জানিয়েছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। বরং প্রচলিত ব্যালট পদ্ধতিতেই ভোট গ্রহণ করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একাধিক অনুষ্ঠানে রক্তপাতহীন, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
ইসির বড় চ্যালেঞ্জ: সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন
বহুদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে প্রশাসক-নির্ভর ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে। ফলে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং স্বচ্ছ ভোট আয়োজনই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে, যেখানে ইসির প্রস্তুতি ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাই নির্ধারণ করবে পুরো প্রক্রিয়ার সফলতা।
