ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথ হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। এনডিটিভি লিখেছে, কলকাতার কাছে বালিতে টোল বুথে ‘আক্রমণকারীদের’ মোবাইল থেকে পেমেন্ট (ইউপিআই) ট্র্যাক করার পর পুলিশ উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
তবে আনন্দবাজার, দ্য ওয়ালসহ কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, রোববার (১০ মে) গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কলকাতায় এনে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সদরদপ্তর ভবানী ভবনে রাতভর জেরা করা হয়। গ্রেপ্তারদের সোমবার (১১ মে) আদালতে তোলা হবে।
গত ৬ মে রাতে কলকাতা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে মধ্যমগ্রামে সড়কে খুব কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলি করা হয় চন্দ্রনাথ রথকে। বুকে ও হাতে গুলি লাগে তার। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ড যখন ঘটে, তখনও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেননি শুভেন্দু। বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের পরপরই এ হামলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে।
তদন্তকারীদের বরাতে দ্য ওয়াল লিখেছে, অত্যন্ত ‘ঠান্ডা মাথায়’ এবং পরিকল্পনা করে হামলা চালানো হয়েছিল। চন্দ্রনাথের গতিবিধি রেকির পাশাপাশি গাড়ির ঠিক কোন জায়গায় তিনি বসেছিলেন তাও নজরে ছিল আততায়ীদের।
পুলিশ সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার লিখেছে, অন্তত এক-দেড় মাস আগে থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের ছক কষা হয়েছিল। সেই সময়ে তাকে হত্যা করার মতো কারণ কার কার থাকতে পারে, কারো সঙ্গে চন্দ্রনাথের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুনে ব্যবহৃত গাড়িটি ঘটনার দিনই বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। তাতে যে নম্বর প্লেটটি রয়েছে সেটি ভুয়া বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলাকারীদের দুটি বাইকও উদ্ধার করা হয়, সেগুলোর নম্বরপ্লেটও ভুয়া বলে মনে করছে পুলিশ। বাংলাদেশের লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে ধসিয়ে দিয়ে এবার ইতিহাস গড়েছে বিজেপি।
২৯৩ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে নিয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী, তার সঙ্গী হিসেবে আরও পাঁচজন মন্ত্রীর শপথ নিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মাত্র ৮০টি আসনে জিতে ভরাডুবির মুখে পড়তে হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে।
সাননিউজ/আরএ
