শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে লিভার অন্যতম। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দূর করা, হজমে সহায়তা করা এবং বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস।
প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় কিছু উপকারী খাবার যোগ করা যেমন জরুরি, তেমনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর খাবারগুলো এড়িয়ে চলাও প্রয়োজন।
ওটস
ফাইবারসমৃদ্ধ ওটস লিভারের জন্য উপকারী একটি খাবার। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ওটস খাওয়া লিভারের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বার্গারসহ অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার লিভারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার বেশি খেলে লিভারে প্রদাহ তৈরি হতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সিরোসিসের মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ব্রোকলি
লিভার সুস্থ রাখতে খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি রাখা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রোকলি লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা বা মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD)-এর ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
কফি
কফি শুধু সতেজতাই দেয় না, লিভারের জন্যও কিছু উপকার বয়ে আনতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, পরিমিত পরিমাণে কফি পান করলে লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি কমতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাসের সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
চিনি কম খান
অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। লিভার অতিরিক্ত চিনি চর্বিতে রূপান্তর করে, যা দীর্ঘমেয়াদে লিভারে চর্বি জমার কারণ হতে পারে। এর ফলে MASLD-এর মতো সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে থাকা ক্যাটেচিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত। বাজারে পাওয়া গ্রিন টি এক্সট্র্যাক্ট বা অতিরিক্ত ঘন নির্যাস গ্রহণ এড়িয়ে চলা ভালো।
পালং শাক
পালং শাকে থাকা গ্লুটাথায়ন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে। এটি স্যুপ, ভাজি বা বিভিন্ন রান্নার মাধ্যমে সহজেই খাদ্যতালিকায় যোগ করা যায়।
লিভার ভালো রাখতে আরও কিছু অভ্যাস
- অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কমান।
- মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
- অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত জীবনযাপন লিভারকে ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে লিভারের কোনো সমস্যা, ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সান নিউজ/ জামান
