যারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিল, তাদের ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, “আজকে যারা গুপ্ত-সুপ্ত আছে, তারা ফ্যামিলি কার্ডের বিপক্ষে ছিলেন।”
রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। এসব মামলায় এমন ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যিনি ২০ বছর আগেই মারা গেছেন।”
মন্ত্রী বলেন, “সব চড়াই-উতরাই পার করে এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। আমরা বলছি সংকট আছে। সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস আমরা দিই না।”
ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।”
বরিশালে এসে আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা শুনে মন্ত্রী বলেন, “জীবনানন্দ দাশের বরিশালে বেড়াতে এসে মনে হচ্ছে, কবি যেমন বলেছিলেন—‘মানুষের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি পৃথিবীর পথে এসে।’ তার সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে পারি, আইনজীবীদের ব্যথা আমি পেয়ে গেছি বরিশাল বারে এসে।”
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, “বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দিলাম। আর ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।”
মতবিনিময় সভায় বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা আইনজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরিন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, সদস্য এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সান নিউজ/ জামান
