বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করল আর্জেন্টিনা। জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে টানা তিন ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
টানা সাত বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল, ইতিহাসে একক মেসি
ম্যাচের শুরুতে একাদশে ছিলেন না মেসি। দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে মাঠে নেমে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এর আগে টানা ছয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন এবং ব্রাজিলের জেয়ারজিনহো। এবার তাদের ছাড়িয়ে এককভাবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখলেন মেসি।
একই সঙ্গে এটি চলতি বিশ্বকাপে তার ষষ্ঠ গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি আরও এগিয়ে গেলেন।
প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা
ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১৯তম মিনিটে দুর্দান্ত ফ্রি-কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জিওভান্নি লো সেলসো। বিশ্বকাপে এটি ছিল তার প্রথম গোল।
৩০ মিনিটে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন হুলিয়ান আলভারেজ। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লাউতারো মার্টিনেজ।
প্রথমার্ধ শেষ হয় আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের লিড নিয়ে।
জর্ডানের প্রতিরোধ, এরপর মেসির শেষ কথা
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে আল তামারির গোলে ব্যবধান কমায় জর্ডান। কিছু সময়ের জন্য ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সেই সম্ভাবনা দ্রুত শেষ করে দেন লিওনেল মেসি।
৮০তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া নিখুঁত ফ্রি-কিকে জর্ডানের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান তিনি। এই গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ৩-১ ব্যবধানের জয়।
পরিসংখ্যানে একচ্ছত্র আধিপত্য
পুরো ম্যাচে বলের দখল এবং আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। প্রায় ৭৪ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। মোট ১১টি শটের মধ্যে তিনটি ছিল লক্ষ্যে, যার সবগুলোই গোলের সুযোগ তৈরি করে।
অন্যদিকে জর্ডান মাত্র চারটি শট নিতে সক্ষম হয় এবং তার মধ্যে একটি থেকেই আসে একমাত্র গোল।
নকআউটের আগে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা
আগেই নকআউট নিশ্চিত হওয়ায় এই ম্যাচে একাদশে বড় পরিবর্তন আনেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। নিয়মিত কয়েকজনকে বিশ্রাম দিয়ে বেঞ্চের খেলোয়াড়দের সুযোগ দেন তিনি। নতুনদের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট থাকার মতো কারণ পেয়েছে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে দলটি। একই কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স ও মেক্সিকোও।
এখন নকআউট পর্বে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান ফর্মে থাকা আর্জেন্টিনা।
