ভারতের গণতন্ত্র ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করার দায়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ব্যবহার করে সুপরিকল্পিতভাবে ‘ভোট চুরি’ করা হচ্ছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর গলা টিপে ধরা হচ্ছে। এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতা।
গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয় অভিমুখে বিরোধী জোটের প্রায় তিনশত সংসদ সদস্যের এক বিশাল পদযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন রাহুল। ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি এবং ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যার দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে দিল্লি পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলটি আটকে দেয়। এ সময় রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতাদের আটক করে সাময়িকভাবে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় উত্তাপ ছড়াচ্ছে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া। বিরোধী দলগুলোর তীব্র অভিযোগ, এই কারসাজির মাধ্যমে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনপদের প্রকৃত ভোটারদের নাম পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লির একটি বস্তি এলাকার উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, সেখানে বসবাসরত ৭২৯ ভোটারের মধ্যে প্রায় সবাইকেই ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এদিকে রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সম্পূর্ণ আইনসম্মত উপায়েই এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ময়দান উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতেও রয়েছে। আদালত ইতিমধ্যে ভোটার নিবন্ধনের নানা প্রক্রিয়া ও ফর্ম পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা তলব করেছে।
সান নিউজ / রাজীব
