ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর ভবনের নিকটস্থ পাঞ্জেরী মডেল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমীর সৈয়দ নিয়ামুল হাসান তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। বরং অভিযোগকারীরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে তার নামে ও দখলে থাকা রেলওয়ের লিজকৃত জমি মো. আবুল কাশেম মাহমুদের নামে বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন। কৃষি লাইসেন্সের আওতায় ওই জমিতে বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা রেলওয়ের নীতিমালা ও আইনের পরিপন্থী বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উদ্ঘাটিত হওয়ার পর রেলওয়ের তৎকালীন বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি ও ইমারত শাখার ডেপুটি কমিশনার ২০০৫ সালের ২২ নভেম্বর মো. আবুল কাশেম মাহমুদের লাইসেন্স ফি বাজেয়াপ্ত করে লাইসেন্স বাতিল করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, পরে আবুল কাশেম মাহমুদ উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে তার পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ তাকে বকেয়া খাজনা পরিশোধের জন্য চিঠি দেয়। তিনি ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে সব বকেয়া পরিশোধ করেন এবং বর্তমানে নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি বিক্রির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাণিজ্যিক লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, সাবেক কাউন্সিলর মিনহাজুর রহমান লিপন, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল মিয়া প্রমুখ।
সান নিউজ/ জামান
