ভারতের মুম্বাইয়ে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে অভিনেতা ইমরান খানকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে বোম্বে হাইকোর্ট। বিদেশি নাগরিক হিসেবে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারীদের ভারতে অবস্থানকালে রাজনৈতিক বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট করেছে আদালত।
গত মাসে মুম্বাইয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন ইমরান খান। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ এবং তাঁকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।
সোমবার (২ নভেম্বর) মামলার শুনানিতে আদালত ইমরান খানের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার মেয়াদ আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তাঁকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু একটি সাধারণ হলফনামা জমা দিলেই হবে না, তাঁকে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
শুনানিতে আদালত মন্তব্য করেন, ‘কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে গিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিলে তাঁকে পরবর্তী ফ্লাইটেই ভারতে ফেরত পাঠানো হতো।’
বিচারপতিরা আরও বলেন, ‘আপনি এত বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন, অথচ এর আগে কখনো কোনো প্রতিবাদে অংশ নেননি। এত দিন পর হঠাৎ কেন একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?’
এ সময় আদালত বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে প্রতিবাদ করুন, এমনকি সেখানে ভোটও দিতে পারেন। কিন্তু এখানে আপনাদের কোনো বিক্ষোভ সহ্য করা হবে না।’
তবে একই সঙ্গে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ অর্থাৎ ‘বিশ্ব একটি পরিবার’—এই নীতির কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সবাই উদারতা দেখিয়ে ইমরান খানকে ভারতে থাকার সুযোগ করে দেবেন।
মামলার শুনানিতে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল যুক্তি দেন, ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক এবং ভারতের ওসিআই কার্ডধারী। ফলে একজন পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় নাগরিকের তুলনায় তাঁর অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সীমিত।
তিনি আরও বলেন, ইমরান খান সামাজিকভাবে বেশ প্রভাবশালী এবং ইনস্টাগ্রামে তাঁর বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হয়েই তিনি সেখানে অংশ নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, আদালতে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো ছাড়া তাঁর পুরো জীবনই ভারতে কেটেছে। ভারতই তাঁর প্রকৃত ঠিকানা। তাঁর সন্তান, পেশাগত জীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সবকিছুই এই দেশকে ঘিরে। ভারতের সঙ্গেই তাঁর শিকড়ের সম্পর্ক।
উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর মুম্বাইয়ে আটক হন অভিনেতা ইমরান খান। মার্কিন নাগরিক ও ওসিআই কার্ডধারী হওয়ায় তাঁকে পরবর্তী সময়ে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
সান নিউজ/ রাব্বি
