অভাবের সংসারে বেড়ে উঠেছেন সোহেল রানা। দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। তবে চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে নাম না থাকায় নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন সোহেল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নিয়োগ গেজেট থেকে এ তথ্য জানা যায়। গেজেটে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছেন ৫৭ জন।
এর আগে গত বছরের ১১ নভেম্বর পিএসসি প্রকাশিত ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে ৬৮৩টি পদের বিপরীতে ৬৬৮ জনকে নিয়োগের জন্য সাময়িকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ওই তালিকায় শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে প্রথম ছিলেন সোহেল রানা।
সোহেল রানা নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের কুখাপাড়া গ্রামের কৃষক আবু হোসেনের ছেলে। ২০১৪ সালে সোনারায় সংগলশী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এবং ২০১৬ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৯২ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।
পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হন সোহেল। সেখান থেকে ২০২০ সালে সিজিপিএ ৩.৫৪ নিয়ে স্নাতক এবং ২০২১ সালে সিজিপিএ ৩.৫৬ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
সোহেল রানা বলেন, “ইতিহাস বিভাগে প্রথম হয়েও আজ আমি নিয়োগবঞ্চিত হলাম। আমার পরিবারে কেউ রাজনীতি করে না। আমার বা পরিবারের কোনো সদস্যের নামেও কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ নেই।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করেছি। ভেবেছিলাম চাকরিতে যোগ দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটাব। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। পরিবার ও আত্মীয়স্বজন সবাই আমাকে নিয়ে অনেক আশা করেছিলেন। সরকারের কাছে আমার দাবি, বিষয়টি ভালোভাবে পর্যালোচনা করে আমাকে যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।”
সান নিউজ/ রাব্বি
