বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের তিন সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত মা ও ছেলেকে দাফন করা হয়। অন্যদিকে নিহত বৃদ্ধার নিজ গ্রামের কবরস্থানে পৃথকভাবে দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে একাধিক সংস্থা কাজ করছে।
নিহতরা হলেন- কচুয়া উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার, তার মা মনিরা বেগম এবং মনিরা বেগমের মা রাশিদা বেগম। রাশিদা বেগম বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রশীদের স্ত্রী।
বুধবার সন্ধ্যায় চান্দেরকোলা এলাকায় জানাজা শেষে মনিরা বেগম ও তার ছেলে আহাদ হাওলাদারকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অন্যদিকে রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃষ্টিপুর গ্রামে তার নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজা ও দাফনে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
এর আগে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা গ্রামের একটি ঘর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ ও সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর রাত ৮টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা একটি হাতুড়িসহ কয়েকটি আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহত আহাদ হাওলাদার ও তার মায়ের ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং ঘরে থাকা মূল্যবান মালামাল উদ্ধার করা যায়নি।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার।
ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও হত্যার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার ধারণা, ঘরে থাকা অর্থ বা স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই নিশ্চিত নয়।
নিহত মনিরা বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল হাওলাদার বলেন, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা অনেক কষ্ট করে সংসার চালিয়েছি। মা ও ভাই মিলে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করছিলেন। ঘরে কিছু টাকা, মায়ের ও ভাইয়ের মোবাইল ফোন এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিল। সেগুলোও পাওয়া যায়নি। আমরা চাই, হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।”
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, “জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, কচুয়া থানা পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একাধিক দল গুরুত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে। সব ধরনের সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।”
সান নিউজ/ হুমায়রা
